বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার | চাঁদপুর
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতের হাতে নয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩) বড় জা মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) গ্রেপ্তারের পর সুমাইয়া আক্তার মিনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি আদালতে জানান, বাড়িতে কোনো ডাকাতি হয়নি। পরিকল্পিতভাবে বড় জাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে নিজেকে আহত ও বাঁধা অবস্থায় দেখানোর নাটক সাজানো হয়েছিল।
নিহত মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। তার স্বামী রনি চাকরির কারণে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সুমাইয়া দাবি করেন, মুখোশধারী দুই ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে জিম্মি করে, হাত বেঁধে স্বর্ণালংকার লুট করে। পরে স্থানীয়দের মধ্যে ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিভিন্ন অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করে পুলিশের সন্দেহ ছোট জা সুমাইয়ার দিকে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতেও একই বক্তব্য দেন।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সংগৃহীত আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
এদিকে, মিমের মৃত্যুর পর তার দুই শিশু সন্তান মাতৃহারা হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।